শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
প্রেমিক ছেলের কাণ্ডে উত্তাল রাবি—সিট গেল হাতছাড়া!
অনলাইন ডেস্ক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলে বান্ধবীকে শার্ট ও ক্যাপ পরিয়ে নিয়ে এসে সারা রাত অবস্থান করায় বিতর্কে জড়িয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। ঘটনা ঘটে গত ৪ জুন, হলের ১৫৩ নম্বর কক্ষে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মো. নাজমুল ইসলাম, পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। মাদারীপুরের বাসিন্দা নাজমুলের সঙ্গিনী ছিলেন একই বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী দুই শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ভোরে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই এক ছাত্র সাইকেলে বের হচ্ছিলেন, পেছনে বসা ছিলেন একজন মেয়ে, যিনি মাথায় ক্যাপ ও গায়ে ছেলেদের শার্ট পরে ছিলেন। দৃশ্যটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা থামানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সাইকেল দ্রুতবেগে চলায় কেউ ধরতে পারেননি। এমনকি হল গেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত দারোয়ানও তাকে থামাতে ব্যর্থ হন।
অভিযুক্ত নাজমুল গণমাধ্যমকে জানান, “৩ জুন আমার জন্মদিন ছিল। কেক কাটতে করতে দেরি হয়ে যায়। মেয়েটির (সাদিয়া) মেস থেকেও তাড়াহুড়ো ছিল, তাকে সেদিন মেস ছাড়তে বলা হয়েছিল। তখন ও আমাকে অনুরোধ করে একটি রাতের জন্য থাকতে দিতে। আমি কেবল সহানুভূতির বশে ওকে হলে নিয়ে আসি, সকালে সে চলে যায়। বিষয়টি প্রভোস্ট স্যারকে জানালে তিনি আমাকে বহিষ্কার করেন এবং বিষয়টি গোপন রাখার আশ্বাস দেন।”
তবে হলে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, “এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা সরাসরি নিয়মভঙ্গ ও নৈতিক বিচ্যুতি। আমরা ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাই। সঙ্গে হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার জবাবদিহিতা চাই।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হলের প্রভোস্ট ড. মো. মোতাহার হোসেন বলেন, “ঘটনাটি সত্য। হল প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, সিট বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, “এটা ভয়াবহ এবং গুরুতর একটি ঘটনা। যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”